Skip to content

ভারতীয় নারীর গণহত্যা (‘দি ফিফটি মিলিয়ন মিসিং ক্যাম্পেন’)

This is the Bengali translation of an article in English by Rita Banerji (রীতা ব্যানার্জি  ). Translated by (অনুবাদ ): Dr. Krishnakali Ray (কৃষ্ণকলি রায়  )

Petition Link (পিটিশন লিঙ্ক ) — Please sign (দয়া করে সয়ী করুন ).

১। গত একশো বছরের মধ্যে ভারতবর্ষে প্রায় পাঁচকোটি নারী ‘হারিয়ে’ গেছেন[1]।এই নিয়ে ২০০৬ সালের ডিসেম্বর মাসে ‘দি ফিফটি মিলিয়ন মিসিং’ নামে আমরা এক প্রচার অভিযান শুরু করি [2]। কিন্তু শুরু করার আগেই আন্দাজ করেছিলাম যে এই নিয়ে তুমূল বিতর্কের ঝড় বয়ে যাবে। মাত্র একশোটা বছরের মধ্যে এতজন মহিলা স্রেফ নিরুদ্দেশ হয়ে গেলেন কি করে এই নিয়ে দেশের আর বিদেশের জনতা প্রচুর প্রশ্ন তুলবেন। কথাটা আদৌ সত্যি কিনা সেই নিয়েও অনেকেরই সন্দেহ হবে। সত্যি বলতে কি অস্ট্রিয়া, সুইডেন, বেলজিয়াম, সুইৎজারল্যান্ড আর পর্তুগাল এই পাঁচ পাঁচটা দেশের মোট জনসংখ্যার থেকেও এই হারিয়ে যাওয়া মেয়েদের সংখা বেশি।
২।২০০৮ সালে কলকাতায় ‘রোটারী ইন্টারন্যাশনাল’এ এই অভিযানের প্রবক্তা হিসেবে আমায় একটা বক্তৃতা দিতে ডাকা হয়েছিলো। এই পুরো ব্যপারটা নিয়েই যে কতরকম ভুল ধারণা আছে সেই নিয়েও কিছু কথা বলেছিলাম। তার মধ্যে সবচেয়ে বড় হলো এই ‘নিরুদ্দেশ’ শব্দটাই। আমি স্পষ্টভাবে জানাতে দ্বিধা করিনি যে ‘ওঁরা হারিয়ে গেছেন’ বললে আসলে কিছুই বলা হয়না। এই মহিলারা শুধু ‘হারিয়ে’ যাননি, এঁরা পুরোপুরি ‘অদৃশ্য’ হয়ে গেছেন। এই ‘হারানো’ বা ‘নিরুদ্দেশ’ শব্দটা এ প্রসঙ্গে প্রথম এনেছিলেন নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেন। উনি ১৯৮৬ সালে ভারতবর্ষে  নারী পুরুষের অনুপাতের  অসাম্য নিয়ে বলতে গিয়ে  দেখিয়েছিলেন যে অন্যন্য দেশে  এই অনুপাতটা সাধারণত ১০৫:১০০[3]। কিন্তু  আদমসুমারীর তথ্য থেকে অংক কষে দেখা গেছে যে ভারতীয় জনসংখ্যার হিসেব থেকে প্রায় ৩.৭ কোটি মহিলা ‘নিরুদ্দিষ্ট’। মোট জনসংখ্যার মধ্যে এঁদের মাথা গোনা হয় বটে, কিন্তু এঁদের চোখের দেখা কেউ দেখতে পায়না। শ্রী সেনের এই অংকের হিসেবে সেদিন কারুর মনে কোনো ঢেউ ওঠেনি। ঘটনার স্রোত একই খাতে বয়ে গেছে। শেষে ২০০৫ সালে, শ্রী সেনের প্রথম হুঁশিয়ারীর প্রায় কুড়ি বছর পরে ‘ইন্ট্রান্যশন্যাল হেরাল্ড ট্রাইব্যুন’এর রিপোর্টে বেরিয়েছে যে পাঁচকোটি ভারতীয় মহিলা ‘নিরুদ্দেশ’ হয়ে গেছেন [4]।
৩। অবশ্য সাধারণ মানুষ এই শব্দের ধাঁধা নিয়ে তেমন মাথা ঘামাননা। তাঁদের মূল সন্দেহই হলো এই ঘটনার ব্যপকতা নিয়ে। হ্যাঁ, খবরের কাগজে অনেকেই কোনো ক্লিনিকের কুয়োয় বাচ্চার দেহাবশেষ পাওয়ার কথা বা রান্নাঘরে ‘দুর্ঘটনার ফলে’  অগুন লেগে গৃহবধূর মারা যাবার কথা  পড়েছেন। কিন্তু তার থেকে মনে  ব্যপক গণহত্যার কোন ছবি ফুটে ওঠেনা।সেদিন বক্তৃতার শেষে বাড়ি ফেরার সময়ে মনে মনে একটা ছক আঁকছিলাম। ছকের একদিকে যদি বছরে গড়ে কতজন মহিলা মারা গেছেন তার হিসেব লিখি আর অন্যদিকে কিভাবে মারা গেছেন তাই লিখি তাহলে সেটা দেখতে হবে এ’রকম –

কন্যাভ্রূণ হত্যা   প্রায় দশ লক্ষ [5]
শিশুকন্যা হত্যা শুধুমাত্র কেরালাতেই প্রায় পঁচিশ হাজার [6]
পণের জন্য খুন প্রায় পঁচিশ হাজার [7]
বয়োঃসন্ধির আগেই মৃত্যু   ’ক্রাই’এর (CRY)  রিপোর্ট অনুযায়ী  প্রতি ছ’জন কিশোরীর একজন বয়োঃসন্ধির আগেই কোন কারণে মৃত্যু হয় [8]ইউনিসেফের (UNICEF) কথামতো এই হিসেবটা ঐ একই বয়সের কিশোরের মৃত্যুর তুলনায় শতকরা চল্লিশ ভাগ বেশি [9]
সন্তান জন্মের কারণে মৃত্যু (ম্যাটার্নাল মর্টালিটি রেট বা MMR) এক লক্ষ ছত্রিশ হাজার (প্রতি পাঁচ মিনিটে সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে বা গর্ভাবস্থা সংক্রান্ত কোন কারণে একজন নারী মারা যান) –(WHO)[10]।

৪। আসুন, ছকটা আরো একটু বিশদে দেখা যাক । আমরা দেখতেই পাচ্ছি যে ভারতে নারীহত্যার সবচেয়ে বড় কারণ হলো কন্যাভ্রূণ হত্যা । বছরে প্রায় দশলক্ষ কন্যাভ্রূণকে গর্ভপাত করিয়ে মেরে ফেলা হচ্ছে। আগামী কয়েক বছরে এই সংখ্যাটা বেড়ে পঁচিশলক্ষে গিয়ে দাঁড়াবে এই আশংকা আছে [11]।
ঠিক এর পরেই আছে শিশুকন্যা হত্যা। এই সংখ্যাটা যে সঠিক কত তা সরকারি খাতা-কলমে হিসেব করা মুশকিল, কারণ ভারতে বাচ্চার জন্মের নথীকরণের ওপর সেরকম কোন কড়াকড়ি নেই। তবু জানা যাচ্ছে যে কেরালার মত রাজ্যে, যেখানে শিক্ষিত মানুষের হার নব্বই শতাংশ সেখানেই বছরে প্রায় পঁচিশ হাজার সদ্যোজাত  মেয়ে বাচ্চাকে মেরে ফেলা হয় [12]। বিহারের মত রাজ্যে বাচ্চার লিঙ্গবৈষম্য আরো অনেক বেশি। একটা সমীক্ষায় বিহারের ‘দাই’দের প্রশ্ন করে জানা গেছলো যে তাঁরা যত বাচ্চা মেয়ের জন্মে সাহায্য করেছেন তার অন্তত অর্ধেক ক্ষেত্রেই সদ্যোজাত মেয়ে বাচ্চাটিকে মেরে ফেলার জন্য তাঁদের টাকা দেওয়া হয় [13]। ভারতের ইতিহাসে বহু বহুদিন ধরে এর’কম চলে আসছে।
নারীহত্যার তৃতীয় কারণ হলো পণ। পণের জন্য প্রতি বছর কতজন যে অল্পবয়সী মহিলা প্রাণ হারাচ্ছেন তারও সঠিক হিসেব পাওয়া দুষ্কর। তার কারণ, এইসব ঘটনা কোনদিন পুলিশের খাতায় ওঠেনা। ১৯৯০ সালে এক সমীক্ষায় দেখা গেছলো যে বছরে প্রায় পঁচিশ হাজার বিবাহিতা নারী পণ এর দরুণ স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়দের হাতে খুন হয়ে যান [14]। দুঃখের বিষয় এই বাইশ বছরে সে সংখ্যাটা কমেনি, বরং বেড়েছে। এমনকি কিছু উপজাতির মধ্যে, যাদের সমাজে আগে পণপ্রথা ছিলোই না সেখানেও দেখা যাচ্ছে পণ নেবার রেওয়াজ  আর তার কারণে বধূহত্যা চালু হয়ে গেছে।

৫। ভারতে নারীসংখ্যা কমার আরেকটা বড় কারণ হলো মেয়েদের অকাল মৃত্যু।  অপুষ্টি আর অসুখে বহু মেয়ে এমনকি পাঁচ বছর বয়স হবারও আগে মারা যায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এদের পরিবার তার জন্য দায়ী। খাবারের বেশির ভাগটা ছেলে বাচ্চাদের দেওয়া হয়, অসুখ করলে মেয়ের পেছনে খরচা করতে বাবা মা অস্বীকার করেন। মেয়ে না বাঁচলে তাঁদের কিছু যায় আসেনা।২০০৭ সালে ইউনিসেফের পরিসংখ্যান অনুযায়ী মেয়েদের অবহেলা জনিত অকালমৃত্যুর হারটা ছেলেদের তুলনায় শতকরা চল্লিশভাগ বেশি[15]।
৬। এরপর আছে সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে বা গর্ভবতী অবস্থায় মৃত্যু বা ম্যাটার্নাল মর্টালিটি। ২০০৭ সালে জানা গেছে যে এই সংখ্যাটা কম তো নয়ই বরং সারা পৃথিবীর মধ্যে ভারতবর্ষেই এই জাতীয় মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি [16]। এর কারণ কখনো প্রসূতির চিকিৎসা ও পুষ্টিতে চূড়ান্ত অবহেলা, কখনো বা অপরিনত বয়সে গর্ভধারণ। ভারতের অনেক জায়গায় এখনও অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ে দেবার রেওয়াজ আছে। অপরিণত বয়সে বিয়ে হয়ে গেলেও মেয়েদের শরীর তো আর সন্তান ধারণের জন্য তখনও তৈরী হয়না। তারফলে গর্ভাবস্থায় অনেক সময়েই নানারকম জটিলতা দেখা দেয়, বাচ্চার জন্মের সময়েই মা ও বাচ্চার মৃত্যু হয়। অনেক সময়ে খুব অল্প বয়সেই বারবার বাচ্চার জন্ম দিতে দিতে মায়ের শরীর একেবারেই ভেঙে যায়। আর তার ফলে পূর্ণবয়স্ক হয়ে ওঠার আগেই মৃত্যু নেমে আসে।
৭। ভারতের যেকোনো শহরের অলিতে গলিতে এখন আল্ট্রাসাউন্ড করানোর ক্লিনিক হয়েছে। গ্রামেগঞ্জেও চলমান হাসপাতাল ইত্যাদির কারণে এ জিনিষ দুর্লভ নয়। কিন্তু  সাধারণ মানুষ এখনও গর্ভপাতের জন্য সস্তা উপায় খোঁজেন। অস্ত্রোপচার বা হাসপাতালের খরচ বাঁচানোই মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়। অপটু হাতে, মোটাদাগের পন্থায় এইসব গর্ভপাত যে নারীর জীবনটাই শেষ করে দিতে পারে সে নিয়ে কারুরই বিশেষ মাথাব্যথা নেই। যে নিজের শরীরে সন্তানকে ধারণ করছে, জন্ম দিচ্ছে সেই নারীরই এই বিষয়ে কোনকিছুই বলার অধিকার নেই। উল্টে এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজের আত্মরতির চাহিদা মেটাতে গিয়ে একের পর এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেবার চেষ্টায় এঁদের নিজেদের জীবন শেষ হয়ে যাচ্ছে।যে সমাজে নারীকে মানুষ হিসেবে না ধরে  ‘গর্ভ’ হিসেবে ধরা হয় সেখানে ‘ম্যাটার্নাল মর্টালিটি’ যে নারীহত্যার একটা যন্ত্রবিশেষ হয়ে উঠবে তাতে আর সন্দেহ কি? সেদিন আমার রোটারীর শ্রোতাদেরও এই কথাই বলছিলাম। ওপরের তথ্যগুলোর দিকে একবার তাকালেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে ভারতে আজ যা চলছে তাকে ‘নারীনিধন যজ্ঞ’ বললেও অত্যুক্তি হয়না। ইউনাইটেড নেশনের জেনোসাইড কনভেনশনে ১৯৪৮ সনদে বলা হয়েছে যে এই হত্যালীলা সমাজের একটা অবিচ্ছেদ্য অংশকে হয় জন্মাতেই দিচ্ছেনা, নয়তো তাদের শারীরিক – মানসিক কষ্টে জর্জরিত করে শেষ অব্দি মেরে ফেলছে [18]।
৮। এই বিষয়ে কথা উঠলে জনতার মনে যে প্রথম প্রশ্নটা ওঠে তা হলো ‘এর কারণ কি’? অমাদের প্রচার অভিযানে যতজন সাড়া দিয়েছেন তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই মনে করেন যে দারিদ্র্য আর অশিক্ষাই এর জন্য দায়ী। তাঁদের ধারণা দেশের মানুষ যদি আরো শিক্ষিত হয়ে উঠতে পারে আর তাদের পারিবারিক আয়ের পরিমাণটা আরেকটু বাড়ে তাহলে হয়তো এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবের ছবিটা সে কথা বলেনা। বেশির ভাগ সমীক্ষায় দেখা গেছে যে নারীহত্যার হারটা মধ্যবিত্ত আর উচ্চবিত্ত পরিবারে বেশি। সেই সব পরিবারের খাওয়াপরার কোন অভাব তো নেইই, চিকিৎসার বা শিক্ষার খরচ মেটানোর সামর্থ্যও যথেষ্টই আছে। অথচ এইসব পরিবারাই পণপ্রথা আর সেই সংক্রান্ত কারণে নারীহত্যায় মদত দেন সবচেয়ে বেশি [19]। তাহলে গরিবি আর অশিক্ষাকেই নারীনিধন যজ্ঞের মূল কারণ বলে ধরা যাবে কি করে?
৯। তাহলে আসল কারণটা কি? এই প্রশ্নেরই উত্তর দেবার জন্য সেদিন রোটারীর শ্রোতাদের সামনে আমার শেষ স্লাইডটা তুলে ধরি। তাতে আলোচনার বিষয় ছিলো ‘নারীহত্যার ভারতীয় অপসংস্কৃতি’। এর পরে ছিলো কয়েকটা প্রথার কথা — সতী, বধূদাহ, দুধপিতি, কুড়িমার, ও জহর । হ্যাঁ এই প্রত্যেকটা শব্দই এক একটা প্রথা, নারীনিধনের প্রথা। ভারতের ইতিহাসে বহুদিন ধরে এইসব প্রথা চলে এসেছে, এরা শুধু সমাজে স্বীকৃতই নয়, বলা চলে ভারতীয় ‘সংস্কৃতি’রও একটা অংশ। সতীদাহ প্রথা, বিধবা নারীকে স্বামীর চিতায় জীবন্ত অবস্থায় পুড়িয়ে মারা, এই প্রথাটা অবশ্য কলোনিয়াল বৃটিশ সরকার ১৮২৯ সালে নিষিদ্ধ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু ১৯৪৭ এ দেশ স্বাধীন হবার পর থেকে আজ অব্দি সতীদাহের অন্তত ৪০টি ঘটনার কথা জানা গেছে [20]। দেশের বহু জায়গাতেই এখনও সতী মন্দির আছে, সেখানে সময়ে সময়ে লোকসমাগমও হয় প্রচুর।  ভারত সরকার আজ অব্দি  সেই মন্দিরগুলোকে ভেঙে ফেলার সাহস দেখাতে পারেননি।
১০। বৃন্দাবন আর বারাণসী, ভারতের এই সবচেয়ে ‘পবিত্র’ দুই শহরে যদি কখনো যান তো দেখতে পাবেন কি বিপুল সংখ্যায় বিধবা মহিলারা সেখানে ভিক্ষা করে দিন কাটাচ্ছেন। এঁদের হয় কোনদিন বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিলো, নয়তো কেউ কেউ সতীদাহের হাত থেকে পালিয়ে বেঁচেছিলেন । অভাবের তাড়ায় এঁদের অনেকেই বেশ্যাবৃত্তি করতেও বাধ্য হয়েছেন [21]।
‘দুধপিতি’ প্রথাটা ভারতের উত্তরপূর্ব অঞ্চলে চালু আছে। জন্মের পরেই মেয়ে বাচ্চাকে দুধের বালতিতে ডুবিয়ে মারা হয়। এই রকমই আরেক নিয়ম চলে ‘কুড়িমার’ গোষ্ঠীর মধ্যে। উত্তরভারতের এই গোষ্ঠীর নিয়ম হলো মেয়ে জন্মানো মাত্র তাকে মেরে ফেলা। এঁরা সবার সামনে বড়াই করে বলেন যে তাঁদের বাড়িতে কোনো মেয়ে নেই, সব ছেলে।সদ্যোজাত কন্যাসন্তানকে মাটির হাঁড়িতে ভরে পুঁতে ফেলা হয়। হয়তো সীতা, ভারতের ২০০০ বছরের পুরনো মহাকাব্যের নায়িকাও এই রকমই মাটিতে পুঁতে ফেলা কোনো কন্যাসন্তান ছিলেন। জনক রাজার লাঙলের ডগা তাঁর প্রাণ বাঁচিয়েছিলো।
‘জহরব্রত’র নামও ইতিহাসের পাতায় দেখে থাকবেন। শত্রুর আক্রমণ আর ধর্ষন থেকে বাঁচার জন্য নারী স্বেচ্ছায় জ্বলন্ত চিতায় প্রাণ দিতেন। অনেক সময়েই যুদ্ধ বাধলেই পরিবারের সন্মান যাতে কোনমতেই ক্ষুন্ন না হয় সেই জন্য দলে দলে নারী জহরব্রতে নিজেকে আহুতি দিতেন। এই কথা বহু গর্ব করে ইতিহাসে লেখা হয়।
নারীকে হত্যা করাটা যখন এইভাবে একটা ‘প্রথা’ হয়ে দাঁড়ায় তখন সমাজ নির্দ্বিধায় একে মেনে নেয়। মানুষের মনে খুন আর সংস্কৃতির তফাতটা মুছে নিঃশেষ হয়ে যায়। অপরাধবোধের বদলে গর্ব এসে সব ন্যায়-অন্যায় এক করে দেয়। যে দেশের সংস্কৃতি এইসব প্রথা আবহমান কাল ধরে মেনে আসছে সে দেশে নারীর গণহত্যার মূল কারণ বুঝতে অসুবিধা হয়না।
১১। সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়ার কথাটাই ভেবে দেখুন। জন্মের সঙ্গে সঙ্গে বাচ্চাকে মেরে ফেলা হয় বা পয়সার জন্য ঘরের বৌকে পুড়িয়ে মারা হয় শুনলে যেকোনো সভ্যদেশের নাগরিকরা শিউরে উঠবেন। কিন্তু ভারতের ‘সংস্কৃতি’ আর ইতিহাসে এই ব্যাপারটার শিকড় এমন গেড়ে বসে আছে যে এদেশে এই ধরণের ঘটনা মানুষের মনে কোনো ঢেউ তোলেনা। এই নিয়ে আলোচনা তুললে বড়জোর সাধারণ মানুষ বড়জোর মুখে বলেন যে ‘হ্যাঁ, অমনটা হয়ে থাকে।’
১২। শুনলে অবাক হবেন যে বিদেশে (আমেরিকা, ক্যানাডা ও যুক্তরাজ্যে) থাকা অনাবাসী ভারতীয়দের মধ্যেও কন্যাভ্রূণ হত্যার রেওয়াজ কম নয়। এইসব অনাবাসীদের শিক্ষা, অর্থ, সামাজিক প্রতিষ্ঠা কোনকিছুরই অভাব নেই, তবু ভারতীয় অপসংস্কৃতির এই ধারাটা এঁরা মন থেকে মুছে ফেলতে পারেননি।  এঁদের মধ্যে পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা এতটাই কমে যাচ্ছে যে যেসব দেশে এঁরা বাস করছেন সেদেশের সরকারেরও ব্যাপারটা নজরে পড়ছে। ২০০৬ সালে ইউনাইটেড নেশনের জেনারাল অ্যাসেমব্লীতে শ্রী নিকোলাস এবারস্ট্যাদ বলেছিলেন যে এই অনাবাসী ভারতীয়দের মধ্যে নারী ও পুরুষের যে তুলনামূলক সংখ্যা দেখা যায় সেটা জীবনবিজ্ঞানের দিক থেকে অসম্ভব [22]। যুক্তরাজ্যের ডাক্তারেরা ভারতীয়দের কন্যাভ্রূণ দেখলেই গর্ভপাত করতে পুরোপুরি অস্বীকার করছেন। কিন্তু তাই দিয়ে এই অনাবাসী গোষ্ঠীকে দাবিয়ে রাখা যাচ্ছেনা। কন্যাভ্রূণ আছে জানতে পারলেই এঁরা ভারতে গিয়ে অনায়াসে গর্ভপাত করিয়ে আবার ফিরে আসেন [23]।
১৩। ভারতবর্ষে এইসব আটকানোর জন্য আইনের অভাব নেই। কিন্তু সে আইন বাস্তবায়িত হয় সামান্যই। ভ্রূণের লিঙ্গ-নির্ধারণ আইনে নিষিদ্ধ। কিন্তু দেশের সব কোণেই এমন অনেক ক্লিনিক আছে যেখানে পয়সা দিলেই জানা যায় ছেলে হবে না মেয়ে। শুধু তাইই নয় পয়্সা দিয়ে সেখানে অবৈধ গর্ভপাতও করানো যায়। পণ দেওয়া ও নেওয়া আইনের মতে অপরাধ বলে চিহ্ণিত করা আছে, পণের জন্য খুন করা তো রীতিমতো ফৌজদারি অপরাধ। কিন্তু এদেশে নিত্যনৈমিত্যিক যত পণ নেওয়া হয় আর তার জন্য যত বধূহত্যা হয় তার বেশির ভাগটাই আইনের কানে ওঠেনা। যদিবা ওঠে সেখানেও অসৎ উপায়েরই জয় হয়। পুলিশকে বা উকিলকে ঘুষ দিয়ে বেশির ভাগ কেসকেই আত্মহত্যা বা দুর্ঘটনা বলে প্রমাণ করা রোজই হয়ে চলেছে। কেরালাতে আইন করে কিছু পুলিশকে নিয়োগই করা হয়েছে যাতে এঁরা হাসপাতালে নজর রাখতে পারেন যাতে কোনো ভ্রূণহত্যা না ঘটে, বা সদ্যোজাত শিশুকন্যার কোনরকম ক্ষতি না হয়। কিন্তু এই পুলিশরা আইনটাকে তামাশা বানিয়ে নিজেদের উপরি রোজগারের রাস্তায় পরিণত করেছেন। টাকা নিয়ে এই জাতীয় অপরাধ নির্বিচারে ঘটতে দেওয়াই এঁদের কাজ [25]।
১৪। আমার মনে হয় ভারতের সাধারণ মানুষ নিজেদের এই লজ্জাজনক কাজের থেকে নিজেরাই মুখ ফিরিয়ে মনকে চোখ ঠারতে চান। আর সেইজন্যই এই হত্যালীলা এমন একটা ভয়াবহ জায়গায় এসে পৌঁছতে পেরেছে। ২০০৮ সালে ইউনাইটেড নেশন কাগজে কলমে জানিয়েছিলেন যে ভারতের মোট জনসংখ্যার হিসেব থেকে প্রায় ৬.২ কোটি নারীর খোঁজ পাওয়া যায়না [26]। তাহলে ভেবে দেখুন এই দেশে ৬.২ কোটি পুরুষ আছেন যাঁদের জীবনে স্বাভাবিক ভাবে নারী সঙ্গিনী পাওয়া অসম্ভব। এই রকম পরিস্থিতিতে যৌন অপরাধ, যৌন বিকৃতি, ধর্ষণ, নারীমাংসের বেচাকেনা কতদূর বেড়ে উঠতে পারে তা অন্দাজ করতে অসুবিধা হয়না। এদেশে আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এমনকি ‘বৌ বিক্রি’র ব্যবসাও চলে। অনেক রাজ্যে, যেখানে পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা অনেক কম বয়োঃপ্রাপ্ত পুরুষদের বিয়ের জন্য মেয়ে পাওয়াই যায়না। এঁরা তখন ঐ সব ব্যবসায়ী বা দালালের থেকে বৌ ‘কিনে’ নিয়ে যান। অনেক ক্ষেত্রেই একই পরিবারের একাধিক পুরুষ প্রত্যেকের জন্য আলাদা বৌ কেনার পয়সা জোতেনা। সেক্ষেত্রে একটিই বৌ কিনে সবাই ভাগ করে তাকে ভোগদখল করেন [27]। ভারতের সামনে আজ অনেক অনেক সমস্যা আছে — দারিদ্য, পরমানু যুদ্ধের আশংকা, এইডস রোগের মহামারী, জনবিস্ফোরণ …..আশাবাদী দৃষ্টিকোণ থেকে বলতে পারি যে এই সব সমস্যারই হয়তো একদিন না একদিন সমাধান হবে। কিন্তু নারীর সংখ্যা যদি এভাবে কমে যেতে থাকে তাহলে পরিস্থিতি যেখানে গিয়ে দাঁড়াবে ও দাঁড়াচ্ছে তার থেকে বাঁচার কোন রাস্তাই চোখে পড়েনা।
১৫। আজ এমন সময় এসে দাঁড়িয়েছে যে যেভাবেই হোক এই সমস্যার সমাধানের জন্য আমাদের ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। আমি রোটারীর শ্রোতাদের সামনেও অনুরোধ রেখেছিলাম। বলেছিলাম ‘ এর সমাধানের জন্য আমাদের প্রত্যেককে এগিয়ে আসতে হবে। আমাদের প্রত্যেককে শপথ করতে হবে যে কোথাও কোনরকম কন্যাভ্রূণহত্যা, শিশুকন্যার ওপর অত্যাচার, পণ ও তার কারণে অত্যাচারের কথা শুনলেই আমরা রুখে দাঁড়াবো। আমরা প্রতিবাদ করবো, যেকোনো ভাবে একে আটকানোর চেষ্টা করবো। শুধু মাত্র ”এখানে অমনটা হয়ে থাকে” ব’লে মুখ ফিরিয়ে উদাসীন হয়ে থাকবোনা’। হ্যাঁ, অনুরোধ রেখেছিলাম। আমার মনে হয়েছিলো রোটারীর সদস্যরা শিক্ষিত, বিবেকসম্পন্ন, সমাজ সচেতন, কাজেই এই আবেদনে তাঁরা নিশ্চয়ই সাড়া দেবেন। কিন্তু তাঁদের যা প্রতিক্রিয়া হয়েছিলো তার কথা ভাবলে আজও অবাক হতে হয়। আমার কথা শেষ হবার ঠিক পরেই একজন প্রবীন সদস্য মঞ্চে উঠে খুব তিক্তভাবে জানিয়েছিলেন যে আমার সমস্ত বক্তব্যটাই ‘বিকৃত’। ভবিষ্যতে কোনদিন যদি এখানে কথা বলতে আসি তাহলে যেন আমি খেয়াল রাখি যে সে বক্তৃতায় এমন বিকৃতির বদলে কিছু আশার কথা, খুশির কথা থাকে ! উনি শ্রোতাদের কাছে আবেদন জানান যে আমার বক্তৃতার জন্য কেউ যেন হাততালি না দেন। শেষটা উদ্যোক্তাদের মধ্যস্থতায় শ্রোতারা দয়া করে কোনমতে একটা লোকদেখানো হাততালি দিয়ে আমায় ধন্য করেন। সেদিন খুব অবাক লেগেছিলো যে শিক্ষিত সমাজ সচেন, আলোকপ্রাপ্ত  শ্রোতারাই যদি এরকম প্রতিক্রিয়া দেখান তাহলে সাধারণ মানুষের কাছে কেমন করে  কোন সাড়া পাওয়া সম্ভব! পরে ধীরে ধীরে আমি বুঝতে পারি যে এই রোটারী সদস্যদের থেকে ঐ ‘সাধারণ’ মানুষদের খুব কিছু তফাৎ নেই। এঁদের মধ্যে যাঁরা ছিলেন, পুলিশ, সরকারী চাকুরে, ডাক্তার, শিক্ষিত উচ্চ ও উচ্চমধ্যবিত্ত শ্রেণীর ব্যবসায়ী, এঁদের কেউই এই নারীনিধনকে আলাদা কোন বড় সমস্যা বলে দেখেন না। আরো বুঝতে পারি যে সেদিন এঁরা আমার কথায় আহত হয়েছিলেন, আসলে হয়তো অস্বস্তিবোধ করেছিলেন কারণ মানসিক ভাবে এঁদের কেউ কেউ ঐ দোষে নিজেরাই দোষী। আজ আমার এ’কথা মনে হয় যে মানুষের মধ্যে ঐ অস্বস্তিবোধটাই জাগিয়ে তুলতে পারাটাই  এই গণহত্যা রোখার একটা রাস্তা খুলে দিতে পারবে। আমার ‘দি ফিফটি মিলিয়ন মিসিং’ প্রচার অভিযানের সেটাই একটা বড় উদ্দেশ্য।

তথ্য সূত্র  :

[1] In December 2006 I founded the 50 Million Missing campaign online, on Flickr. By 2008 we had another website that provides comprehensive information on various aspects and issues of the campaign and hosts an international petition. The goal of the campaign is to raise international awareness about female genocide in India and to bring to light issues like female foeticide, infanticide and dowry murders, that have led to a systematic annihilation of at least 50 million women from India’s population over the last century. The campaign is run entirely by volunteers. There are six administrators and four moderators from seven countries all working online. Our flickr site is supported by 2000+ contributing photographers from over 25 countries, and has a photo gallery of more than 13,000 photos of Indian girls and women. At some point we will use these photos for travelling exhibitions, books and other ground projects to publicise the campaign. For now, each photo is a reminder that 50 million women who should have been living in India are not. The flickr site also has discussion links open to all. The campaign goals are also publicised through presentations to organisations, interviews to newspapers and participation in workshops and seminars. Some of the interviews that provide more information about the campaign and its agenda follow.

Rita Banerji, ‘Fifty million missing women,’ in The Mount Holyoke Alumnae Quarterly, Summer 2008, online: http://www.alumnae.mtholyoke.edu/blogs/blog/mount-holyoke-alumnae-quarterly/learn-more/2008/08/29/fifty-million-missing-women#QA, accessed 1 June 2009; Ciara Leeming, ‘Fifty Million Missing,’ in The Big Issue (U.K.), 04 September 2008, online: http://ciaraleeming.blogspot.com/2008/09/50m-missing.html, accessed 1 June 2009; Rita Banerji, ‘India’s silent gender cleansing,’ in The Asia Magazine (Hong Kong), 13 April 2009, online: http://www.theasiamag.com/categories/focusindia/special-reports/indias-silent-gender-cleansing?utm_source=BenchmarkEmail&utm_campaign=www_theasiamag_com__April_13__2009&utm_medium=email, accessed 10 June 2009; Mathures Paul, ‘Freedom abducted,’ in The Statesman (India), 8 March 2008, online: http://www.thestatesman.net/page.arcview.php?clid=19&id=221938&usrsess=1, accessed 1 June 2009.

[2] Gautam Allahbadia, ‘The 50 million missing women,’ in Journal of Assisted Reproduction and Genetics, vol. 19, no. 9 (September 2002):411–16, online: http://www.springerlink.com/content/r1tnxa0tn91bwmfj, accessed 1 June 2009.

[3] Amartya Sen, ‘More than a 100 million women are missing,’ in the New York Review of Books, vol 37, no. 20 (20 December 1990), online: http://ucatlas.ucsc.edu/gender/Sen100M.html, accessed 1 June 2009.

[4] Swami Agnivesh, Rama Mani and Angelika Köster-Lossack, ‘Missing: 50 million Indian girls,’ in International Herald Tribune, 25 Nov 2005, online: http://www.iht.com/articles/2005/11/24/opinion/edswami.php, now held at the Geneva Centre for Security Policy, online: http://www.gcsp.ch/e/publications/Issues_Institutions/Asia/OpEd_NewsArticles/Mani-25Nov05.pdf, accessed 7 May 2009.

[5] Allahbadia, ‘The 50 million missing women.’

[6] Gita Aravamudan, Disappearing Daughters: The Tragedy of Female Foeticide, New Delhi: Penguin Books, 2007, pp. 157–59.

[7] Himendra Thakur, ‘Are our sisters and daughters for sale? When will the horrors of dowry and bride-burning end?’ inIndia Together, 25 September 2007, online: http://www.indiatogether.org/wehost/nodowri/stats.htm, accessed 7 May 2009.

[8] ‘Statistics: Indian Children,’ in CRY (Child Rights and You), n.d., online: http://america.cry.org/site/know_us/cry_america_and_child_rights/statistics_underprivileged_chi.html, accessed 10 June 2009.

[9] Patricia Moccia (ed.-in-charge), David Anthony (ed.), and Annalisa Orlandi (principal writer and researcher), The State of the World’s Children: Women and Children, The Double Dividend of Gender Equality,’ South Asia Edition, UNICEF, 2007, online: http://www.unicef.org/sowc07/docs/sowc07_rosa.pdf, accessed 10 June 2009.

[10] ‘Indian women ask government for greater commitment in the fight against maternal mortality,’ in Asia News.it, 30 December 2005, online: http://www.asianews.it/view.php?l=en&art=4999, accessed 10 June 2009.

[11] G. N. Allahbadia, ‘The 50 million missing women,’ in Journal of Assisted Reproduction and Genetics, vol. 19, no. 9 (September 2002): 411–16, online: http://www.ncbi.nlm.nih.gov/pubmed/12408534?ordinalpos=1&itool=EntrezSystem2.PEntrez.Pubmed.Pubmed_ResultsPanel.Pubmed_RVDocSum, accessed 7 May 2009.

[12] Aravamudan, Disappearing Daughters, pp. 157–59.

[13] R. Murthy, ‘Fighting female infanticide by working with midwives: an Indian study,’ in Gender and Development, vol. 4, no. 2 (1996):20–27.

[14] Thakur, ‘Are our sisters and daughters for sale? When will the horrors of dowry and bride-burning end?’

[15] Moccia, Anthony and Orlandi (eds), State of the World’s Children.

[16] Roopa Bakshi, ‘UNICEF unveils new tool to combat maternal mortality in India,’ in UNICEF India, 6 April 2006, online: http://www.unicef.org/infobycountry/india_33208.html, accessed 7 May 2009.

[17] Alvin Powell, ‘A doctor goes home: combating Afghanistan’s maternal mortality rate,’ in Harvard University Gazette, 9 June 2005, online: http://www.hno.harvard.edu/gazette/2005/06.09/36-dalil.html, accessed 7 May 2009.

[18] (Article 2), Convention on the Prevention and Punishment of the Crime of Genocide, adopted by Resolution 260 (III) A of the United Nations General Assembly on 9 December 1948, online: http://www.hrweb.org/legal/genocide.html, edited 27 January 1997, accessed 1 June 2009.

[19] Amelia Gentleman, ‘India still fighting to save the girl child,’ in International Herald Tribune, 15 April 2005.

[20] Lata Mani, ‘Mutiple meditations: feminist scholarship in the age of multinational reception, in Feminist Theory Reader, ed. Carole Ruth McCann and Seung-Kyung Kim, New York: Routledge, 2003, pp. 365–77, p. 372.

[21] Mian Ridge, ‘India’s expanding city of widows,’ in Christian Science Monitor, 9 August 2007, online: http://www.csmonitor.com/2007/0809/p07s02-wosc.html, accessed 7 May 2009.

[22] Nicholas Eberstadt, ‘The global war against baby girls,’ speech delivered before the United Nations General Assembly, 6 December 2006.

[23] Neelam Raaj, ‘Thanks to Asians, US has got a skewed sex ration,’ in Times of India, 2 April, 2008.

[24] ‘Doctor queries Indian abortions,’ in BBC News, 8 March 2006, online: http://news.bbc.co.uk/2/hi/health/4785750.stm, accessed 7 May 2009.

[25] G. Aravamudan, Disappearing Daughters, pp. 37–38.

[26] ‘Eliminate gender bias,’ in the Sunday Tribune, 04 May 2008 edition 1, online: http://www.sundaytribune.co.za/index.php?fArticleId=4385069, accessed 7 May 2009.

[27] Archana Jyoti, ’15-yr-old girl’s abduction reveals gender gap,’ in the Asian Age, 14 July 2005.

মূল লেখা:  http://intersections.anu.edu.au/issue22/banerji.htm,

ব্লগ:  http://50millionmissing.wordpress.com/

পিটিশন : http://50millionmissing.wordpress.com/petition/petition-to-stop-female-genocide-femicide-gendercide-in-india/

Translator (অনুবাদ ): Dr. Krishnakali Ray (কৃষ্ণকলি রায়  )

Bengali version first published on Guruchandali: Bangla eZine Magazine

Link to original article in English ( মূল লেখা):  (Intersections: Gender and Sexuality in Asian and the Pacific)

অনুবাদ : কৃষ্ণকলি রায়

2 Comments leave one →
  1. October 8, 2013 3:40 pm

    আপনাদের এই বিবরণটি আষ্টে-পৃষ্টে পড়ে ভারতের ব্যাপারে বিশেষ কিছু কোথায় কি ঘটছে না জানতে পারলেও এইটুকু লক্ষ্য করছি আধুনিক সামাজিক পরিবেশ রক্ষার জন্য ভ্রুণ হত্যার হার অনেকাংশে বেড়ে গেছে।যে পরিবারে ২-৩ টি শিশু আছে,হঠকারিতার মধ্যে আরেকটি শিশু এসে যায় , পরিবার থেকে সেই শিশুকে পৃথিবীর আলো দেখার আগে তাকে সরিয়ে ফেলা হয়। সামাজিক পরিবেশ উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে এই ভ্রুণ হত্যার হার ক্রমশ বেড়ে চলেছে।আমাদের সভ্য সমাজকে এর বিরুদ্ধে সজাগ করা যায় না? উত্তর পেলে বাধিত হব।
    সুহৃৎ বন্দ্যপাধ্যায়।

  2. October 8, 2013 3:46 pm

    ভারতীয় উপমহাদেশ সামাজিক পরিবেশের উপর এর কি প্রভাব এবং এর থেকে কি ভাবে এই হত্যা লীলা বন্ধ করা যায় চিন্তার ব্যাপার।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: